ঢাকার নবাবগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমি (নাফা)র আয়োজনে শরৎকালীন নাড়ু উৎসব প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের চন্দ্রখোলা নাটমন্দির চত্বরে এ অনুষ্ঠান করা হয়।
এই উৎসবে বিভিন্ন গ্রামের নানা বয়সী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন এবং পুরস্কার জিতে নেন। নাড়ুর পরিচ্ছন্নতা, স্বাদ, ডেকোরেশন, রেসিপি বিশেষত্ব বিচার করে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় জনকে নির্বাচিত করা হয়। দেশীয় শেফ, ফুড ব্লগার, নাড়ু তৈরি এক্সপার্ট বিচারকের দায়িত্ব পালনে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন, ভারতীয় আন্তর্জাতিক শেফ প্রফেসর প্রিয়দর্শীনি দাস। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিরা জানান, নাড়ু উৎসব একটি ইউনিক ধারণা । ঘরে বানানো নাড়ু নিয়ে এত আয়োজন দেখে তারা আনন্দিত এবং দেশীয় সংস্কৃতি এ চর্চা আমাদের সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। নাফা বাংলাদেশে নাড়ু উৎসব শুরু করেছে সে জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানায়। বাংলাদেশে নাড়ু উৎসবের প্রবর্তক, নাফার সাধারণ সম্পাদক সায়মা রহমান তুলি বলেন, আমাদের অঞ্চলে উৎসবমুখর দিনগুলিতে আমরা নাড়ু খেতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়িয়েছি। গ্রামের দক্ষ হাতের এই নাড়ুর রয়েছে নানা রেসিপি, নাফা বাংলাদেশের মাটির সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বের কাছে পৌছে দিতে চায় তার ই অংশ হিসেবে আমরা নাড়ু উৎসব শুরু করি। ব্যাপক সাড়া থাকে প্রতিবছর। ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দ ও খুশিতে মেতে উঠা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভাল এবং নাড়ু উৎসবের মত অনুষ্ঠান সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। নাফার শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাড়ু উৎসব থিম ভিত্তিক ফ্যাশন শো, শরতের চিত্র প্রদর্শনী, সংগীত ও নৃত্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নাফা নবাবগঞ্জের মানুষকে নানা রকম চমক দেখিয়ে আসছে। বিশেষ ভুমিকা রাখছে সাংস্কৃতির ক্ষেত্রে। এলাকার শিশু কিশোরদের মেধার বিকাশে এ প্রতিষ্ঠান একটি আইডল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
নাফার ব্যবস্থাপনা পরিচালক লতিফা রহমান লতার সভাপতিত্বে ও সভাপতি শফিউর রহমান তোতা সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোকিলপ্যারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম, চন্দ্রখোলা কালি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার তালুকদার, চন্দ্রখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্যামল কুমার মজুমদার প্রমুখ।
নাফার সাধারণ সম্পাদক সায়মা রহমান তুলির পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন। নাফার সভাপতি শফিউর রহমান তোতা জানান, আগামী বছর এই উৎসব ঢাকায় করার ইচ্ছা আছে। যেখানে গ্রামের নারীরা তাঁদের হাতের তৈরি নাড়ু তুলে ধরতে পারবেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট সম্মাননা তুলে দেয়।
Leave a Reply