মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির ক্যাশ ম্যানেজার শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থানায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে ব্যাংক-সংক্রান্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ হওয়ায় ঘটনাটির মূল তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিছুর রহমান বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি মূলত ব্যাংক-সংক্রান্ত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘটনাটি তদন্ত করবে।
এদিকে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। এরই মধ্যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ চেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ব্যাংকে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে শাখার নোটিশ বোর্ডে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেয়া হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের অগ্রণী ব্যাংক শাখার ক্যাশ ম্যানেজার শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা ব্যাংক শাখায় গিয়ে বিক্ষোভ ও ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
অভিযোগের পরদিন শুক্রবার ছুটির দিনেও আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ব্যাংকের শ্রীনগর শাখা কার্যালয়ে ভিড় করেন গ্রাহকেরা। তারা দ্রুত অভিযুক্ত ক্যাশ ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার এবং তাদের আমানতের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে উদ্ভূত সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তবে গ্রাহকদের কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর জালিয়াতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে বৈধ আমানতকারী গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
চ্যানেল২৪
Leave a Reply