তানজিম ইসলামঃ হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট, ছবি ও ভিডিও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়া প্রয়োজন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চ্যাট ব্যাকআপ সংরক্ষণ করা যায়। নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করার সময় একই ফোন নম্বর ও যে গুগল অ্যাকাউন্টে ব্যাকআপ রাখা হয়েছিল, সেটি ব্যবহার করলে সেই ব্যাকআপ শনাক্ত করে রিস্টোর করার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই ফোন পরিবর্তনের আগে পুরোনো ডিভাইস থেকে সর্বশেষ একটি ম্যানুয়াল ব্যাকআপ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ খুলুন। এরপর উপরের ডানদিকে থাকা তিন ডট মেনুতে গিয়ে সেটিংস নির্বাচন করুন। সেখান থেকে চ্যাটস > চ্যাট ব্যাকআপ অপশনে প্রবেশ করুন।এখানে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করে ব্যাকআপের সময়সূচি ঠিক করতে পারবেন। চাইলে প্রতিদিন, সপ্তাহে একবার কিংবা মাসে একবার স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু রাখা যায়। প্রয়োজন হলে ইনক্লুড ভিডিওস অপশনটি চালু করে ভিডিওও ব্যাকআপের আওতায় রাখা যাবে। সবশেষে ব্যাকআপে চাপ দিলে সর্বশেষ চ্যাটের একটি ম্যানুয়াল ব্যাকআপ তৈরি হবে।
নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করে আগের ফোনে ব্যবহার করা একই নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। এরপর ফোনে সেই গুগল অ্যাকাউন্ট যুক্ত করুন, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ সংরক্ষিত রয়েছে।
ব্যাকআপ শনাক্ত হলে হোয়াটসঅ্যাপ সাধারণত রিস্টোর করার অপশন দেখায়। সেখানে রিস্টোর নির্বাচন করলে ব্যাকআপে থাকা চ্যাট ফিরে আসতে শুরু করবে। ব্যাকআপে ছবি ও ভিডিও থাকলে সেগুলোও ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে ব্যাকআপে যা সংরক্ষিত ছিল, মূলত সেটুকুই ফিরে পাওয়া সম্ভব। তাই নতুন ফোনে যাওয়ার আগে সর্বশেষ ব্যাকআপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।অনেক সময় পর্যাপ্ত স্টোরেজ না থাকা, ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হওয়া কিংবা গুগল অ্যাকাউন্টের সমস্যার কারণে ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে। এমন হলে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
প্রথমে ফোনটি রিস্টোর করুন। এরপর ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না দেখুন। ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে অন্য একটি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে চেষ্টা করতে পারেন। প্রয়োজনে মোবাইল ডাটা দিয়েও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা যায়।
এরপর ফোনে পর্যাপ্ত খালি স্টোরেজ আছে কি না পরীক্ষা করুন। জায়গা কম থাকলে অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও বা ফাইল সরিয়ে কিছুটা স্টোরেজ খালি করুন।হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ সংক্রান্ত সমস্যা হলে গুগল অ্যাকাউন্ট ঠিকভাবে সিঙ্ক হচ্ছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। ফোনের সেটিংস থেকে গুগল অ্যাকাউন্টের সিঙ্ক অপশনে গিয়ে প্রয়োজন হলে সিঙ্ক নাও চালু করুন।
তারপর হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট ব্যাকআপ সেটিংসে গিয়ে সঠিক গুগল অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করা হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
সমস্যা চলতে থাকলে গুগল অ্যাকাউন্ট ফোন থেকে রিমুভ করে আবার অ্যাড করেও চেষ্টা করা যেতে পারে।হোয়াটসঅ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশন বন্ধ থাকলেও ব্যাকআপ বা রিস্টোরে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ফোনের অ্যাপ সেটিংস থেকে হোয়াটসঅ্যাপের পারমিশনস বিভাগে গিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো চালু আছে কি না পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ছবি ও ভিডিও ব্যাকআপের ক্ষেত্রে ফটোস এবং ভিডিওস-সংক্রান্ত পারমিশন চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply