ঘটনা এক:
প্রথমে আমার বন্ধুদের ভেতর থেকেই শুরু করা যাক। যে বন্ধ বাইশ তেইশ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে কোটিপতি হয়ে গেছে। সেই বন্ধুরই ফেসবুক আইডিতে ধর্মের বাণীতে সয়লাব, মনে হবে দূর্নীতি বলতে কিছু আছে পৃথিবীতে সেটা ও জানেই না। নিয়ম করে ধর্মের বাণী ছড়ায়।
ঘটনা দুই:
এবার আত্মীয়দের ভেতর থেকে বলা যায়। যে আত্মীয় নিম্ন মানের একটা চাকরি করে আলিসান জীবন যাপন করে। তার দান খয়রাতের যন্ত্রণায় আমরা কী করলাম জীবনে শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। তার বাড়ি গাড়ির কাছে আমরা মেউ হয়ে বসে থাকি এমন একটা অবস্থা।
ঘটনা তিন:
উনাকে চিনি ৫ই আগস্টের পর থেকে। ফেসবুকে একজন কট্টর জামায়াতের কর্মী। জামাই প্রবাসী পরকীয়া করে তারই এক আত্মীয়র সাথে। কিন্তু ফেসবুকে সরব জামায়াত নিয়ে মনে হয় তার মতো নীতিবাদী নারী দুইন্নাতে আর একটাও নাই। জামায়াত শিবির নিয়ে দিনে অসংখ্য পোস্ট থাকে।
ঘটনা চার:
এই ঘটনাটা বেশ মজাদার। যে পোলাডা জামায়াত শিবিরের জন্য অন্তর দিয়ে দেয়। যে বিএনপিকে চাঁদাবাজ ছাড়া কথা বলে না। অনলাইনে সরব গরম সবসময়ে তার বাপ নাকি ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি। আরো চমৎকার বিষয় হচ্ছে ওর বন্ধুর কাছ থেকে শোনা টাকা পাইলে ঘুরে যেতে সময় নেয় না। অথচ দিনভর চাঁদাবাজ চাঁদাবাজ করে জাবর কাটে।
ঘটনা পাঁচ:
এবার আসি আবার বন্ধুদের তালিকায়। যে বন্ধুকে জানতাম রাজনীতিই করে না। যে বন্ধু রাজনীতি করি বলে তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো। যে আম্লিকরে ব্যবহার করে চাকরির সুবিধা নিতে চাইতো, ৫ই আগস্টের পর শুনি সে জামায়াতের লোক।
ঘটনা ছয়:
এবার সেনসিটিভ একটা বিষয় নিয়ে বলি। যে শিক্ষককে আদর্শ মনে করতাম। ভাবতাম দুইন্নাতে একজন নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ থাকলে সেই এই শিক্ষক। যার হাসির জন্য পাগল থাকতো ছাত্রীরা। সেই শিক্ষককেই দেখেছি আম্লিকের চামচামি করে বিজনেস করতে। ৫ই আগস্টের পর দেখি সেই জুলাইয়ের বড়ো স্টক হোল্ডার।
ঘটনা সাত:
অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু মানুষের সাথে পরিচয় ঘটে আচমকা। কোনো কারণ নেই কিন্তু পরিচয় হয়। যেমন দুইতিন দিন আগে একজনে ম্যাসেজ দিয়েছে, ‘কথা বলা যাবে’? ‘একটা কথা বলার ছিলো’। জানি না কী বলার ছিলো। জানার আগ্রহও হয়নি কেনো জেনো, কিছু খারাপ মানুষ থাকে জন্মগত তেমনি এক মানুষ। উপরে এক জিনিস ভেতরে আরেক জিনিস।
এটাকেই বলে দ্বিচারিতা। অসংখ্য মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এদের ভেতর ভালো মানুষও পেয়েছি তেমন খারাপ মানুষও পেয়েছি। কিন্তু জামায়াত যারা করে তাদের মতো দ্বিচারিতা করার মানুষ খুব কম দেখেছি। আমার শিবির করা শিক্ষকের আচরণ দেখেই জামায়াত বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে প্রথম। তারপরই মুলত জামায়াত নিয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। আমার সেই শিক্ষক এখন সফল ৫ই আগস্টের স্টক হোল্ডার হিসেবে আছে। ৫ই আগস্টের আগে আম্লিকের সফল স্টক হোল্ডার ছিলো।
এরাই হচ্ছে মুলত সমাজের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। একজন প্রকাশ্য খারাপ মানুষ সমাজের যতটা ক্ষতি না করতে পারে এরা তার চেয়ে বেশি করতে পারে।
ঘটনাগুলো কোনো ব্যক্তি আক্রমণের জন্য নয় একেবারেই বাস্তব ঘটনা থেকে নেওয়া। কারো সাথে মিলে গেলে লেখার জন্য আমি দায়ী নই।
আবুল বাশার।
Leave a Reply