নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহারে প্রবাসী হাবিবুর রহমানের শিশুদের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে অপহরণের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে তাঁর বর্তমান শ্বশুরবাড়িতে হামলার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাবিবুরের সাবেক স্ত্রী শাকিলা আক্তারের বিরুদ্ধে।
প্রাপ্ত তথ্য ও দোহার থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাগরিবের নামাজের ঠিক পূর্বে দোহারের দক্ষিণ শিমুলিয়ায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি প্রবাসী হাবিবুর রহমানের দুই কন্যা সন্তান— হাবিবা (১১) ও হাফসা (৬)-র শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সজাগ দৃষ্টির কারণে বাধা পেয়ে লোকটি শিশুদের না নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে পরিবার জানতে পারে, হাবিবুরের প্রাক্তন স্ত্রী শাকিলা আক্তার (২৮) শিশুদের নিয়ে আসার জন্যই মূলত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন।
সংক্রান্ত বিষয়ে জানা গেছে, প্রায় ১ বছর পূর্বে পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে দুই কন্যাসন্তান, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রেখে শাকিলা আক্তার চলে যান এবং পরবর্তীতে হাবিবুরকে ডিভোর্স প্রদান করেন। পরে হাবিবুর পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তিনি কর্মসূত্রে কাতারে অবস্থান করছেন।
এদিকে ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর, হাবিবুরের প্রাক্তন স্ত্রী শাকিলা আক্তার তাঁর স্বজনদের নিয়ে হাবিবুরের দ্বিতীয় স্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে হানা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে হাবিবুরের বর্তমান স্ত্রীকে না পেয়ে শাকিলা ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁর কাকি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের ওপর হামলা ও মারধর চালায়। হামলায় একজনের মাথা ফেটে যায় এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে ফুলতলা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে হাবিবুরের মাতা এবং শিশুদের দাদী কুলসুম (৫৫) জানান, তাঁর দুই নাতনির ভবিষ্যৎ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি দোহার থানায় শাকিলা আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে শাকিলা আক্তারের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
Leave a Reply