পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণই মহালয়া। মহালয়া অমাবস্যায় শারদীয় দেবী দুর্গার অমাবস্যার বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হয়। শাস্ত্রমতে, এই তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যে আগমনের সূচনা ঘটে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনাকে স্বাগত জানাতে সকালে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হবে।
মহালয়া উপলক্ষে চণ্ডীপাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হবে। মূলত মহালয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দুর্গাপূজার দিন গণনা।
পুরাণে মহালয়ার মাহাত্ম্য
মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাণে দুর্গোৎসবের তিনটি পর্বের কথা বলা হয়েছে- মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণমতে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান।
শিবের বর অনুযায়ী, কোনো মানুষ বা দেবতা মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। এই বর পেয়ে অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তির সৃষ্টি করেন। দেবতাদের দেওয়া ১০টি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা টানা নয় দিন যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করেন।
পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ
মহালয়ার ভোর থেকেই প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার প্রচলন রয়েছে। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। এ সময় অনেকে মৃত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনা করেন। জল, তিল ও অন্ন উৎসর্গের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তর্পণ।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্রদানের মধ্য দিয়ে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসে নিজের আবাস থেকে মর্ত্যলোকে পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। সেই আগমনকে কেন্দ্র করেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহ তৈরি হয়।
Leave a Reply