যুগ যুগ ধরে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদেরও প্রিয় অভ্যাস রাতের ইবাদত।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ হলো রাত জেগে ইবাদত করা। আর তাই আল্লাহর প্রিয় বান্দারা রাত জেগে ইবাদতে মশগুল থাকেন।আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, এটা তোমার অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থান- মাকামে মাহমুদে’।(সূরা: বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৭৯)
যুগ যুগ ধরে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদেরও প্রিয় অভ্যাস রাতের ইবাদত।
ফজর ও এশা জামাতে পড়া: ফজর ও এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করলে সারা রাত জেগে নফল ইবাদতের সওয়াব লাভ হয়। হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে তার জন্য অর্ধরাত (নফল) নামাজ আদায়ের সওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে, তার জন্য সারা রাত (নফল) নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে’। (তিরমিজি: ২২১)রাতে ১০০ আয়াত পাঠ: পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে দিবসের শুরু ও শেষ করার অফুরন্ত পুরস্কার রয়েছে। রাতে ঘুমের আগে অন্তত ১০০ আয়াত তেলাওয়াতের চেষ্টা করা। এতে রাত জেগে ইবাদতের সওয়াব মেলে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের বেলায় ১০০ আয়াত পড়ে, তার আমলনামায় সারা রাত ইবাদত করার সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে’। (ইবনে খুজাইমাহ: ১১৪২)
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মুমিন তার সুন্দর চরিত্র দ্বারা রোজাদার ও রাতভর ইবাদতকারীর সমান মর্যাদা লাভ করতে পারে। (আবু দাউদ: ৪৭৯৮)তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমানো: রাতে ঘুমের সময় তাহাজ্জুদে ওঠার জন্য পূর্ণ নিয়ত ও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও যদি ঘুম না ভাঙে তবু কেবল নিয়তের কারণে আল্লাহ দান করবেন সারা রাত ইবাদতের সওয়াব। হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে, কিন্তু তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রাপ্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লেখা হবে, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকাস্বরূপ হয়ে যাবে’। (নাসায়ি: ১৭৮৭)
Leave a Reply