একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ কিছু হুজুগে ও উগ্রপন্থী অনুসারী লেলিয়ে দিয়েছে। এখন এদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করলেই আপনাকে ‘ইসলামবিরোধী’ ট্যাগ দিতে এরা এক মুহূর্তও দেরি করবে না। মূলত এরা পবিত্র ধর্মকে নিজেদের ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। হঠাৎ করে তারা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নকশা করা কালিমার পতাকা নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে। এর পেছনের আসল কারণটি কী? জেএমবি, বাংলা ভাই কিংবা শায়খ আবদুর রহমানরা কি তবে নতুন রূপে ফিরে আসছে? প্রিয় মাতৃভূমি কে অস্থিতিশীল করার জন্য?
প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশে কি এখন কোনো পক্ষ বা অন্য ধর্মাবলম্বীরা আমাদের ধর্মে আঘাত হেনেছে যে, আমাদের এই মুহূর্তে ‘তৌহিদি জনতা’ সেজে এই ধরনের শোডাউন দিতে হবে?
এই উগ্র শোডাউন আন্তর্জাতিক বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা পাঠাবে। বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হবে যে—আমাদের দেশে মুসলিমরা অমুসলিমদের উপর অত্যাচার করছে। এই সব ভিডিও ও কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে বিভিন্ন বৈরী রাষ্ট্র ও স্বার্থান্বেষী মহল বিশেষ করে ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনবে। সত্যিকার অর্থে, একটা নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠী চায় সরকার বিপদে পড়ুক এবং এদেশের মানচিত্র বদলে যাক। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে কখনোই টিকে না থাকুক—যেমনটা তারা ১৯৭১ সালেও চেয়েছিল।
বিগত ২০০১ থেকে ২০০৫ মেয়াদে এই উগ্রপন্থী মৌলবাদীদের কারণেই তৎকালীন সরকারের বিরাট সম্মানহানি হয়েছিল। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমরা কোনোভাবেই চাই না দেশে ও দেশের বাইরে আমাদের বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক।
সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ:
এসব অপশক্তি যেন আর কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখুন এবং আইনি ব্যবস্থা নিন।
দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান:
বাংলাদেশপন্থী সকল সচেতন নাগরিকসহ সব অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের চোখ-কান খোলা রাখার অনুরোধ করছি। আসুন, ধর্মের নামে উগ্রতা ছড়িয়ে দেশের ক্ষতি করার এই অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে রুখে দিই।
ধন্যবাদ।
এসবি নিলয়
অনলাইন এক্টিভিষ্ট
Leave a Reply