চার্জারের কেবল ফোনে সংযোগ হলেই সেটি নিরাপদ এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত কেবল ব্যবহার করলে চার্জিংয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত চার্জিং সমর্থন করে এমন ফোনে সঠিক মানের কেবল ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কেবলের গায়ে কাটা দাগ, তার বেরিয়ে যাওয়া বা কানেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। ফোন নির্মাতার দেওয়া কেবল অথবা নির্ভরযোগ্য ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করে এমন কেবল ব্যবহার করুন।
রাতে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এটি এড়িয়ে চলা উচিত। চার্জ হওয়ার সময় ফোনে কিছুটা তাপ তৈরি হয়। ফোন ঢেকে রাখলে সেই তাপ সহজে বের হতে পারে না। ফলে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে ব্যাটারির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন।
৩. বিছানা বা নরম জায়গায় চাপা দিয়ে চার্জ করবেন না
বিছানা, কম্বল কিংবা নরম কাপড়ের ওপর ফোন রেখে চার্জ করাও ভালো অভ্যাস নয়। এসব জায়গায় ফোনের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নাও করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে শক্ত ও সমতল জায়গায় ফোন রাখাই নিরাপদ। রাতে চার্জ দেওয়ার সময়ও ফোনকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।
৪. চার্জিং পোর্ট ভেজা থাকলে কেবল লাগাবেন না
ফোন বা চার্জিং পোর্টে পানি কিংবা আর্দ্রতা থাকলে চার্জারে সংযোগ করা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে চার্জিং পোর্টে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ফোনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফোন ভিজে গেলে আগে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দিন। দ্রুত শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার বা অতিরিক্ত গরম বাতাস ব্যবহার করা ঠিক নয়।
৫. পোর্টে ময়লা জমলে খোঁচাখুঁচি করবেন না
চার্জিংয়ের সময় কেবল ঠিকমতো সংযুক্ত না হওয়া, বারবার চার্জ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা সামান্য নড়াচড়াতেই চার্জ বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব সমস্যা হলে চার্জিং পোর্ট পরীক্ষা করা দরকার। পোর্টে ধুলা বা ময়লা জমে থাকলেও এমন সমস্যা হতে পারে। তবে পরিষ্কার করার সময় পোর্টের ভেতরে পিন, ধাতব বস্তু বা অন্য কোনো ধারালো জিনিস ঢোকাবেন না। পোর্ট পুড়ে যাওয়া, গলে যাওয়া বা দৃশ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজে মেরামতের চেষ্টা না করে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে দেখানো ভালো।
৬. অতিরিক্ত গরম জায়গায় ফোন চার্জ দেবেন না
সরাসরি রোদ, গরম ঘর কিংবা তাপ উৎপন্ন করে এমন যন্ত্রের পাশে ফোন চার্জ করা উচিত নয়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে। গাড়ির ড্যাশবোর্ডে সরাসরি রোদের মধ্যে ফোন রেখে চার্জ দেওয়ার অভ্যাসও এড়িয়ে চলুন।
৭. চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না খেয়াল করুন
চার্জের সময় সামান্য উষ্ণতা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু ফোন অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে চার্জার, কেবল বা ফোনের কোনো অংশে অস্বাভাবিক তাপ তৈরি হলে চার্জিং বন্ধ করে কারণটি পরীক্ষা করা উচিত। অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।
৮. ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন চার্জার ব্যবহার করবেন না
অন্য ফোনের চার্জার ব্যবহার করলেই যে সমস্যা হবে, তা নয়। তবে চার্জারটি ফোনের প্রয়োজনীয় চার্জিং মান ও ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বস্ত নির্মাতার এবং ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চার্জার ব্যবহার করুন। শুধু বেশি ওয়াটের চার্জার হলেই সেটি ফোনের জন্য ভালো এমন ধারণাও ঠিক নয়।
৯. ক্ষতিগ্রস্ত চার্জার বা কেবল দিয়ে চার্জ দেবেন না
চার্জারের প্লাগ, অ্যাডাপ্টার কিংবা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। তার ছিঁড়ে যাওয়া, কানেক্টর বাঁকা হওয়া, পোড়া দাগ বা অন্য কোনও দৃশ্যমান ক্ষতি থাকলে নতুন ও নির্ভরযোগ্য চার্জিং সরঞ্জাম ব্যবহার করাই নিরাপদ।
১০. সারারাত চার্জে রাখাকে ঘিরে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই
আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকে। ফলে ফোন ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়ার পরও সারারাত চার্জারে সংযুক্ত থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে এমনটা নয়। তবে দীর্ঘ সময় চার্জে রাখার সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফোনকে বালিশ, কম্বল বা অন্য কোনো আবদ্ধ জায়গায় রেখে চার্জ দেওয়া উচিত নয়।
Leave a Reply