১ম বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ২য় বিশ্বযুদ্ধেও কোনো একক দেশ একই সাথে ১৭ টি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। ২০২৬ সালে ইরান বিশ্বের দুই পরাশক্তি ইসরায়েল এবং আমেরিকা বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। আমেরিকা-ইসরায়েল ইরানকে ধ্বংসস্তূপ করে হয়তো পিছনে নিয়ে যেতে পারবে তবে আমেরিকা – ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য ছিলো ইরানের রেজিম ( বর্তমান শাসন ব্যবস্থা) পরিবর্তন করা যা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বরং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কূটনৈতিক উপায়কে যতটুকু গুরুত্ব দিতেন বর্তমান তার ছেলে মুজতবা খামেনি যুদ্ধে আরো বেশি আক্রমণাত্মক। আর কুকুর অনুযায়ী মুগুরের বড্ড প্রয়োজন ছিলো।
ইসরায়েল গাজায় যে নৃশংস বর্বর হামলা করেছিলো তাতে অসংখ্য শিশু মারা গেলেও তারা সফল অনেকটা হয়েছিলো। সিনেমার মতই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তার নিজের রুম থেকে ঘুমানো থেকে তুলে এনে আমেরিকা বহু দেশের শাসকের মনেই ভীতির সঞ্চার করেছিলো। ইরান আপাতত তার রাশ কিছুটা হলেও টেনে ধরতে পেরেছে। ৮৬ বছর বয়সী জীবিত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির থেকে মৃত খামেনি বেশি শক্তিশালী হয়ে দেখা দিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে এপস্টেইন মূলত ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন প্রশিক্ষিত এজেন্ট ছিলো। এপস্টেইন ফাইলে ট্রাম্পের এমন গোপনীয় কিছু আছে যা ট্রাম্পকে বাধ্য করেছে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে জড়াতে।
নেতানিয়াহুর নিজ দেশে তার বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির মামলা চলমান। তাকে গাজা, ইরানসহ আরো অসংখ্য যুদ্ধ করতে হবে সেই মামলা ধামাচাপা দিতে। যদিও ট্রাম্প নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নির্ধারণ করে আমেরিকায় বাস করা ৮০ লাখ ইহুদি। আমেরিকার বড়ো কর্পোরেশনগুলোর ( আমেরিকায় কোম্পানিকে কর্পোরেশন বলে) মালিক ইহুদিরা ( যেমন: ইউনিলিভার, কোকা কোলা)। আবার মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ইহুদিদের হাতে। বিশ্বের মিডিয়া সম্রাট মারডকও ইহুদি।
আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট হতে হলে ডোনেশন লাগে। সেই ডোনেশনের যোগান ইহুদিরা দেয়। মিডিয়ার সাপোর্ট লাগে। সেটাও ইহুদিরা দেয়। তাই ইসরায়েল নাখোশ হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নেই। সাবেক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনকে নিয়ে শান্তি আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন। তার ফলস্বরূপ তাকে মনিকা লিওনিস্কি কেলেঙ্কারিতে অভিশংসিত হয়ে শেষ দেড় বছর খু্ঁড়িয়ে চলতে হয়।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ,ইয়েমেনের হুতিদের ইরান সহায়তা করে থাকে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গিয়ে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র প্রধান তার ক্ষমতায় থাকা অসম্ভব। ইসরায়েলের প্রযুক্তি এবং প্রভাব বিশ্বব্যাপী এত বেড়েছে যে মিলেমিশে চলা ছাড়া উপায় নেই। আর ইসরায়েলের প্রযুক্তি যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে তাকে থামানোর মত কেউ হয়তো আমার জীবদ্দশায় দেখতে পাবো না।
ইহুদিদের ইতিহাস, ইসরায়েলের কেনো জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে- তা ভবিষ্যতে লেখার ইচ্ছা রইল।
Leave a Reply