কালকে থেকে একটা লেখা মস্তিষ্কে পীড়া দিচ্ছে ভাবছিলাম এ নিয়ে কিছু লিখবো না। তারপরও লেখা শুরু করলাম দেখি কী হয় লেখাটেখা কিছু হয় কিনা! রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্র, এক বড়ো ভাই এটা নিয়ে বেশ সরব। পৃথিবীর অসংখ্য দেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত। রাশিয়া অর্ধেক রাষ্ট্রপতি শাসিত এই বিষয় একটু পরে আসি। বাংলাদেশ শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা দিয়ে আমরা সবাই অবগত আছি সেই রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বাকশালের নামে পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাই ধ্বংস করে ফেলছিল।
তার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জন্মের মাত্র চার বছরের মাথায় ভয়াবহ ট্রাজেডির মুখে পরে। প্রায় তিন বছর কোনো রাষ্ট্রই ছিলো না। বাংলাদেশ রাষ্ট্র মুলত স্টাবল হয় জিয়াউর রহমান যখন উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক ধারা চালু করেন। স্বাধীনতার সাত বছর পর একটা রাষ্ট্র তার কাঠামোগত ব্যবস্থার দিকে আগায়। এটা একটা রাষ্ট্রের জন্য খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতি। কিউবা বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সাথে সাথেই রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার হয়। কিউবা দ্রুত স্টাবল হওয়ার পেছনের মূল কারণও ছিলো এটা (কিউবাও রাষ্ট্রপতি শাসিত)। জন্মের পর বাংলাদেশ যদি একটা পরিবারের খপ্পরে না পরতো আজ বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে থাকতো। ভৌগলিক এবং আর্থসামাজিক দিক থেকে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে এই বাংলাদেশ। শুধু বঙ্গোপসাগরে যে পরিমাণ সম্পদের জমাট আছে তা দিয়ে হাজারখানেক রিচার্ড চাইল্ড পরিবার তৈরি হতে পারবে বাংলাদেশে।
রাশিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হওয়ার পরও সেই দেশের নাগরিকের ভোটার অধিকার মৌলিক অধিকার খর্বকায়। ভিন্ন মত ভূলন্ঠিত। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নাম রাজনীতির ছাত্ররাও বলতে পারবে না। ভারত পাকিস্তান এমনকি উজবেকিস্তানেরও কমপক্ষে পাঁচটা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নাম বলা যাবে। কিন্তু রাশিয়ার শুধু পুতিন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের নাম বলতে কষ্ট হয়ে যাবে। একই অবস্থা চীন এবং দক্ষিণ কুরিয়ার ক্ষেত্রেও। সিরিয়াও দীর্ঘ শাসন চালিয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থার নামে বাশার আল আসাদ। সমসাময়িক স্বৈরাচারের যে ইতিহাস লেখা হবে তার ভেতর জ্বলজ্বল করে ঝলমলে করবে বাশার আল আসার আর হাসিনার নাম।
গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত। তিনটারই সতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। সব গণতন্ত্র প্রজাতন্ত্র নয় তবে সব প্রজাতন্ত্রেই গণতন্ত্র থাকে। আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় গণতন্ত্র ফল্ট করতে পারে দ্রুত। রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় গণতন্ত্র এবং প্রজাতন্ত্র বিদ্যমান রাখা কষ্টসাধ্য। একনায়কতন্ত্র/ডিকক্টেটর হওয়ার পেছনে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কিংবা রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা কোনোটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শাসক এবং শাসক বানানোর মাধ্যম/জণগণ। ধরেন একটা রাষ্ট্রে পঞ্চাশজন লোক আছে তার ভেতর তিরিশ জনের পছন্দ ‘জোকার’। এখন কোনো জোকারকে সুযোগ পাইলে তারা শাসক হিসেবে বসাবে এটা স্বাভাবিক। কে শাসন করবে তা নির্ভর করে যারা শাসক বানায়া তাদের উপর। মূর্খরা দরিদ্র হয় নাকি দরিদ্রারা মূর্খ হয়?
রাষ্ট্রপতি শাসিত হোক কিংবা সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা হোক দুইটা হয় জণগনের সরাসরি অথবা পরোক্ষে ভোটে। এটা হচ্ছে এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষকে ২০ শতাংশ মানুষ শাসন করতে পারে। যতদিন না ৮০ শতাংশ মানুষ নিজেদের স্বার্থ নিয়ে সোচ্চার হয়। নিজেদের স্বার্থপরতা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হলে সারাজীবন ২০ শতাংশ মানুষের দ্বারাই শাসিত হতে হবে। সেটা খারাপ হলেও কিছু করার থাকবে না ততদিন, যতদিন না ভালো মানুষগুলোর ঐক্য হবে।
আবুল বাশার।
Leave a Reply