সম্পাদকীয়ঃ ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স শব্দটা বেশ শোনা যাচ্ছে। ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স কী? সোজা বাংলায় কল্যানমূলক রাজনীতি। ওয়েলফেয়ার স্টেট হয় কিন্তু ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স হয় কীভাবে? বরং ওয়েলফেয়ার স্টেট তৈরি করতে পলিটিশিয়ানরা স্টেপ গ্রহণ করবে। যখন পলিটিক্সই হয়ে উঠবে ওয়েলফেয়ার, তখন সেখানে বাটপারির আশঙ্কা দেখা দিবে।
চিটাগংয়ের ফারাজ করিমের কথা সবার মনে থাকার কথা। এই তো সেদিন, মানে বছরখানেক আগে কত চোটপাট নিয়ে ওয়েল ফেয়ার করেছে। ওয়েলফেয়ারের পেছনে ছিলো ভয়ংকর লুটপাটের ইতিহাস। বৃক্ষ রোপণ যদি পলিটিশিয়ানদের করতে হয় তাহলে পরিবেশ উপদেষ্টার আদৌ কোনো দরকার পড়ে? ওয়েলফেয়ার স্টেটের কাজ কী? ‘এমন একটা সরকারব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।’
সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে সফল ওয়েলফেয়ার স্টেট হিসেবে উদাহরণ দেওয়া যায়। আপনি খুঁজ নিয়ে দেখেন, এসব রাষ্ট্রে কতগুলো ওয়েলফেয়ার সংস্থা পাবেন? অথচ, ডেনমার্কের একজন শ্রমিকের এক দিনের আহারের সমান এই দেশের একজন শ্রমিকের একমাসের বেতন ক্ষেত্রবিশেষ তার চেয়েও কম। আশেপাশে শ্রমিক সংস্থার অভাব নাই। ওয়েলফেয়ার নাম দিয়ে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, নরওয়ে ততগুলো প্রতিষ্ঠানই নাই। আমাদের যতগুলো ময়লার ভাগার আছে, সুইডেনে এতগুলো নদীই নাই। কিন্তু আমাদের নদীগুলো দেখেন ময়লা ভর্তি। অথচ, নদীমাতৃক যে ওয়েলফেয়ার সংস্থা আছে, এনজিও আছে, যে অর্থ লেনদেন হয় সুইডেনে নদী রক্ষায় তা বাজেটও থাকে না। আবার আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও আছে তার কাজ কী? যদি ওয়েলফেয়ারই করতে হয় পলিটিশিয়ানদের। মূলত পলিটিশিয়ানদের কাজ হচ্ছে চাপ প্রয়োগ করে রাষ্ট্রের কাজগুলো সঠিকভাবে করানো।
যদি রাষ্ট্রকে ওয়েলফেয়ার স্টেট তৈরি করা যেতো তাহলে ময়মনসিংহের জয়নাল আবেদীনকে রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল করতে হতো না। পালন সরকারকে হেঁটে হেঁটে বই বিলি করতে হতো না, বানাতে হতো না স্কুল।
একটা পৌরসভার প্রশাসকের গাড়ি মেইনটেনেন্স খরচ পাঁচ/দশ লাখের অধিক। তিনি ইউনও হিসেবেও গাড়ি ইউজ করেন। সেই গাড়ি মেইনটেনেন্স খরচও নেন নিশ্চয়ই? একজন মানুষ দুইটা গাড়ি কীভাবে ইউজ করে? পলিটিশিয়ানের কাজ ছিলো এখানে প্রশ্ন করা, খাল পরিষ্কার করে হাইপ তুলে কৃতিত্ব নেওয়া নয়। অথচ, আমরা পলিটিক্সকে ওয়েলফেয়ারে রুপান্তর করছি ক্ষীণ স্বার্থ হাসিল করতে।
পলিটিক্যাল পার্টিকে কোনোভাবেই ওয়েলফেয়ার পার্টিতে রুপান্তর করা যাবে না। তাহলে রাষ্ট্র ওয়েলফেয়ার স্টেট হতে বাধাগ্রস্ত হবে। অবশ্যই রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেকটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার আর নিশ্চিতের গ্যারান্টার হবে পলিটিশিয়ানরা। এখন পলিটিশিয়ানরা যদি ওয়েলফেয়ারের নাম দিয়ে ফারাজ করিমের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার দেখায় সেটা কী গ্রহণযোগ্য হবে? বরং পলিটিশিয়ানরা নিশ্চিত করবে আইন অনুযায়ী যেন সঠিক বিচার পায় রাষ্ট্রের কাছে। ওয়েলফেয়ার নাম দিয়ে ফৌজদারি অপরাধের বিচার নিজ হাতে করা যাবে না। এমনকি থানায়ও বিচার করার এখতিয়ার রাখে না। ওয়েলফেয়ার স্টেট চাই। ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স নয়, ফেয়ার পলিটিক্স চাই। জামায়াতি ন্যারেটিভে পলিটিক্সের ক্ষেত্র নষ্ট করা যাবে না।
আবুল বাশার।
এলএলবি অনার্স, এলএলএম,
এমএসএস ইন আইআরএলএস।
Leave a Reply