দোহার প্রতিনিধি: দোহারের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম নারিশা চৈতাবাতরে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক সংগঠন “চৈতাবাতর যুব সমাজ”। এটি একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করা।
গঠনকাল থেকেই চৈতাবাতর যুব সমাজ নানা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে রক্তদান কার্যক্রম, অক্সিজেন সেবাশিক্ষা সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। এছাড়াও অসহায় ও দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, দুর্যোগকালীন সহায়তা প্রদান এবং যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংগঠনটির সদস্যরা বিশ্বাস করেন — “পরিবর্তন শুরু হয় নিজ গ্রাম থেকেই”। সেই লক্ষ্যেই তারা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে সমাজে ন্যায়, সহযোগিতা ও মানবিকতার ভিত্তি আরও দৃঢ় হয়।
চৈতাবাতর যুব সমাজ এখন গ্রামের তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে সংগঠনটিকে আরও সম্প্রসারিত করে একটি আদর্শ সামাজিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে গড়ে তোলা। ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের চৈতাবাতর গ্রামে সমাজ উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজ করছে একদল উদ্যমী তরুণ। অরাজনৈতিক এই সংগঠনের নাম “চৈতাবাতর যুব সমাজ”। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে নানামুখী সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে ঐক্য, মানবতা ও সচেতনতা গড়ে তোলা। তাদের মূল স্লোগান— “এসো আলোর পথে চলি, আলোকিত সমাজ গড়ি।”
বহুমুখী সামাজিক কর্মকাণ্ড
সংগঠনটি নিয়মিতভাবে এমন অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা স্থানীয় সমাজে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তাদের অন্যতম কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— জামায়াতে ৪০ দিন নামাজ আদায়কারীদের পুরস্কৃত করা, রাস্তার লাইট ও গোরস্থানের লাইট স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আর্থিক সহায়তা প্রদান, ওয়াজ মাহফিল আয়োজন, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ট্রাফিক সচেতনতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের বই ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।
এছাড়া ঈদ, কোরবানির সময় ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা আয়োজন করে সামাজিক মিলনমেলা, যার মাধ্যমে তরুণরা একত্রিত হয়ে সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
মানবিক সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা
চৈতাবাতর যুব সমাজ শুধু উন্নয়নমূলক কাজেই নয়, বরং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও সবসময় সক্রিয়।
দুর্যোগ বা সংকটময় মুহূর্তে তারা দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। সংগঠনটি দোহার থানার জরুরি যোগাযোগ নম্বর, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ অফিস ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ বিপদের সময় দ্রুত সাহায্য পেতে পারে।
তাছাড়া এলাকার রক্তদাতাদের তালিকা সংরক্ষণ করে তারা নিয়মিতভাবে রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার
মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে ইতিবাচক পথে রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, পোস্টার ক্যাম্পেইন এবং সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করছে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান
চৈতাবাতর যুব সমাজ এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সংগঠনটি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ইসলামী লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে।
এছাড়া তারা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে কাজ করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তারা চৈতাবাতরে ডিজিটাল হেল্পলাইন সার্ভিস, রক্তদাতা ডাটাবেজ, এবং শিক্ষা-সহায়তা তহবিল চালু করতে চান। তাদের স্বপ্ন— চৈতাবাতরকে একটি আদর্শ ও উন্নত সমাজের মডেল হিসেবে গড়ে তোলা।
উপসংহার
বর্তমান সমাজে যেখানে উদাসীনতা বাড়ছে, সেখানে চৈতাবাতর যুব সমাজের মতো সংগঠনই সমাজে আশা জাগায়। এই তরুণরা প্রমাণ করেছেন— সমাজ উন্নয়নের জন্য বড় পুঁজি নয়, প্রয়োজন কেবল মানবিক মন ও সেবার ইচ্ছা।
Leave a Reply