লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতার প্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা পাঁচ দিন অনশন করার পর এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে তার প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার (২৪) বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।গ্রেফতার রাহেনা গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতার প্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। তার দাবি ছিল, ইমন হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ইমন তা থেকে সরে গেছেন।রাহেনার দাবি, কাতারে থাকা অবস্থায় ইমন হোসেন মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং রমজান মাসে দেশে এসে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দেশে এসেও তাকে বিয়ে না করে ইমন আবার কাতারে চলে যান।অনশনের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।তবে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।ভিডিওবার্তায় ইমন হোসেন আরও দাবি করেন, তার পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে রাহেনা আক্তার বারবার তার বাড়িতে এসে অনশনের নাটক করছেন। এ ঘটনায় রাহেনা আক্তারকে গ্রেফতার করায় তিনি রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অনশনে বসেছিল। ওই সময় সে পুলিশকে নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাকে বারবার বুঝিয়েও সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে যে নাম-ঠিকানা দিয়েছিল তা ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করা হলেও সঠিক পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় তাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন।
Leave a Reply