ঢাকা জেলা প্রশাসনের ডিজিটাল নাগরিকসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদন করে সহায়তা পেয়েছেন নবাবগঞ্জের চার অসহায় ব্যক্তি। তাদের মধ্যে দুজন স্বামীহারা নারী, একজন হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও একজন মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলায় উপস্থিত হয়ে উপকারভোগীদের হাতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নাগরিকসেবা সহজীকরণ এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানিয়ে আবেদন করতে পারেন।প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে বারুয়াখালী ইউনিয়নের লিলি বেগম চার বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর এক মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিলেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি অ্যাপের মাধ্যমে সেলাই মেশিনের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।
কলাকোপা ইউনিয়নের সুমন সাহা নবাবগঞ্জ কলেজে অনার্স পর্যায়ে অধ্যয়নরত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়ার খরচ চালাতে সহায়তা চেয়ে আবেদন করলে তাকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। কৈলাইল ইউনিয়নের হৃদরোগে আক্রান্ত শেখ কাজিম উদ্দিনের চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আগলা ইউনিয়নের স্বামীহারা যমুনা মণ্ডল মানুষের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে সংসার চালান। তার জীবিকা নির্বাহের জন্যও সহায়তা দেওয়া হয়।
সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত লিলি বেগম বলেন, “চার বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। একদিন ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন করি। এই মেশিন দিয়ে কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। এতে মেয়েকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারব। জেলা প্রশাসক নিজে এসে আমাদের হাতে সহায়তা তুলে দেবেন, তা ভাবিনি।”
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নাগরিকসেবা সহজীকরণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানাতে পারছেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
তিনি আরো বলেন, আমি নিজেই নবাবগঞ্জে এসেছি উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা তুলে দিতে। সরকারি সেবা যেন মানুষের কাছে সহজে, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। অসহায় নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply