মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে স্ত্রীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে তাঁর নতুন স্বামী আব্দুল জব্বারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন স্বামী মো. মন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পর গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীনগর থানা পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন ট্যাংরা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মন্টু মিয়া (৫৫) ঢাকার লালবাগ থানার ৮ নম্বর কাশ্মেরী টোলা লেনের মৃত স্বপন মোল্লার ছেলে।
মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল জব্বার প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। এলাকায় চলাফেরার সুবাদে মন্টুর স্ত্রী রুবিনা বেগমের সঙ্গে জব্বারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তাঁরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রায় দুই বছর আগে মন্টু, তাঁর স্ত্রী রুবিনা এবং জব্বার শ্রীনগর থানাধীন পশ্চিম খৈয়াগাঁও এলাকায় কাজী সাইফুজ্জামানের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বসবাসের সময় রুবিনা বেগম গোপনে জব্বারকে বিয়ে করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে জব্বারকে নিজের ভাই পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।পরবর্তীতে জব্বারের সঙ্গে রুবিনার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি মন্টুর নজরে এলে তাঁদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে জব্বারের সঙ্গে মন্টুর বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুবিনা তাঁর স্বামী মন্টুকে ডিভোর্স দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং জব্বারকে নিয়ে তাঁর বর্তমান ঠিকানার বাসায় বসবাস শুরু করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে জব্বার হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply