তানজিম ইসলাম: খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আর মাত্র এক দিন বাকি। এ উপলক্ষে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার খ্রিষ্টান পল্লিগুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ। গির্জা ও বাড়িগুলো সেজেছে নতুন সাজে। প্রতিটি বাড়ির সামনে শোভা পাচ্ছে ক্রিসমাস ট্রি। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বুী অধ্যুষিত নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৬টি গ্রাম, দোহার উপজেলার ১টি ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১টি গ্রাম মিলে স্থানীয়ভাবে ১৮ পল্লি নামে পরিচিত।
নবাবগঞ্জ উপজেলার গোল্লায় অবস্থিত সাধু ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জায় চলছে শেষ মুহুর্তের সাজসজ্জার কাজ। গির্জার ভেতরে দৃষ্টিনন্দন কুঁড়েঘর নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন যিশুখ্রিষ্টের অনুসারীরা। এলাকার তরুণ তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন তাঁদের বাড়ির উঠানের শোভাবর্ধনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বড়দিন উপলক্ষে অতিথি আপ্যায়নের জন্য বাড়িগুলোতে তৈরি করা হচ্ছে রকমারি পিঠাপুলি।
গোল্লা এলাকায় অবস্থিত সাধু ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জার ফাদার গাবরিয়েল গোমেজ বলেন, গির্জাগুলোয় ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯টায় প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা থেকে লোকজন আসতে শুরু করবেন। ২৫ ডিসেম্বর ভোর থেকে উৎসব শুরু হবে। সেদিন সকাল ৯টায় প্রার্থনা সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
১৮ পল্লি এলাকায় গির্জা আছে মোট ছয়টি। সেগুলোকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও ঝলমলে আলোকসজ্জায়। গির্জার ভেতরে দৃষ্টিনন্দন কুঁড়েঘর নির্মাণ করা হয়েছে। মাতা মেরির কোলে শোভা পাচ্ছে যিশুখ্রিষ্টের মূর্তি।
তুইতাল এলাকার গৃহবধূ পিংকি রোজারিও বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য আমরা কয়েক দিন ধরেই কেক ও পিঠাপুলি তৈরি করছি। অনেক আত্মীয়স্বজন দেশ ও দেশের বাইরে বসবাস করেন। বড়দিনে উপলক্ষে দেশে বেড়াতে আসেন। সবাই মিলে এবার উৎসব উদ্যাপন করব। তাঁদের জন্য হরেক রকমের খাবার রান্না করা হবে।’
বান্দুরা এলাকার বাসিন্দা রুথ এমল্ডো গোমেজ মলি তিনি বলেন, ১৮ পল্লিতে ৬টি গির্জায় প্রার্থনা হবে। এর মধ্যে আছে বান্দুরার হাসনাবাদ পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা, গোল্লা সাধু ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জা, তুইতাল পবিত্র আত্মার গির্জা, সোনাবাজু ফাতেমা রানীর গির্জা ও মুন্সিগঞ্জের কেয়াইনে শুলপুর গির্জা এবং বক্সনগরে সাধু আন্তনীর গির্জা।
এদিকে বড়দিন উপলক্ষে নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা বাজারে কেনাকাটা অনেকটাই বেড়েছে। বান্দুরা বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী বিকাশ বলেন, প্রতিদিনই খ্রিষ্টান মহল্লার লোকজন আসছেন নতুন কাপড় কিনতে।
বেকারিগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভিড় বেড়েছে। বান্দুরা বাজারের লরেন্স বেকারির নিকোলাস সঞ্জিব গোমেজ বলেন, এবার কেক তুলনামূলক কম বিক্রি হচ্ছে। কারণ, বড়দিনে অনেকেই এখন বাড়িতে পিঠাপুলির সঙ্গে নিজেরাই কেক তৈরি করেন।
বড়দিনকে বরণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ জপমালা রানীর ধর্মপল্লির পালপুরোহিত ফাদার কল্লোল গোমেজ। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। ২৪ ডিসেম্বর রাতে প্রার্থনার মাধ্যমে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। গির্জায় চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্ততি।
গির্জাগুলো পরিদর্শন করার কথা জানিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা তাঁদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম বলেন, দোহারে একটি খ্রিষ্টানপল্লী রয়েছে, সেখান তারা উৎসবমুখর পরিবেশে এবার বড়দিনের উৎসব পালন করবে।
দোহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাকিবুল হাসান ঈশান বলেন, গির্জা ও আশপাশের এলাকায় সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি সাদাপোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে। বড়দিন উপলক্ষে দোহার নবাবগঞ্জে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই।
Leave a Reply